
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ঘিরে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। পরদিন বুধবার বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এখনো মোটরসাইকেলটির সন্ধান পায়নি পরিবার।
তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম ও তাঁর এক স্বজনের সঙ্গে কথা বলে নিখোঁজ হওয়ার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।
তাহসিফ পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ ভবনে থাকতেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামের বন্ধুস্থানীয় এক ছোট ভাইয়ের ডাকে বাসা থেকে বের হন তিনি। দ্বীপের সঙ্গে কথা বলে ফিরে আসবেন বলে পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে নিচে নামেন তাহসিফ। তবে এরপর আর বাসায় ফেরেননি।
ছেলে বাসায় না ফেরায় তাঁর মা একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে মায়ের মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানান তাহসিফ। তবে বার্তাটি পড়ে ছেলেকে ব্যস্ত মনে হয়েছিল বলে জানান তাঁর বাবা এনায়েতুল করিম।
এরপরও তাহসিফ বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর খোঁজ করতে থাকেন। বুধবার দুপুরে ছেলের সন্ধানে তুরাগ থানায় যান এনায়েতুল করিম। তখন পুলিশ তাঁকে কোনো তথ্য দিতে পারেনি। পরে বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে উত্তরখান থানা থেকে ফোন করে জানানো হয়, তাঁর ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। এনায়েতুল করিম জানান, যে এলাকা থেকে তাঁর ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে তাহসিফ যেতেন বলে তাঁদের জানা নেই।
দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তাহসিফ। তাঁর একটি মোটরসাইকেল ছিল। মাসখানেক আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন তিনি। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে মোটরসাইকেল চালাতে নিষেধ করা হয়েছিল।
তাহসিফের এক স্বজনের ভাষ্য, মঙ্গলবার রাতে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মোটরসাইকেলটি সঙ্গে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মোটরসাইকেলটির অবস্থান সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ওই স্বজন বলেন, ‘আমরা দ্বীপের সঙ্গেও কথা বলেছি। কিন্তু তাহসিফের বাইকটি মিসিং। পুলিশ আমাদের কাছে বাইকের ডিটেইলস, ছবি চেয়েছে। আমরা দিয়েছি, পুলিশ এটা বলতে পারবে।’
তাহসিফের সঙ্গে সেদিন কী ঘটেছিল, তা জানতে দ্বীপের সঙ্গেও কথা বলেছেন পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বীপ তাঁদের জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে তাহসিফের সঙ্গে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেছিলেন তিনি। পরে তাহসিফকে তাঁর বাসার এলাকার কাছে রেখে ফিরে যান দ্বীপ।
তাহসিফ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে কর্মরত ছিলেন। পরে তাঁর চাকরি চলে যায় বলে জানিয়েছে পরিবার। এনায়েতুল করিম জানান, বিমানবাহিনী থেকে চাকরি চলে যাওয়ার কারণ হিসেবে ‘শৃঙ্খলাজনিত’ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল। এরপর তাহসিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও নেত্র নিউজে কাজ করেন।
ছেলের স্বভাব সম্পর্কে এনায়েতুল করিম বলেন, ‘সে ছিল অত্যন্ত জেন্টেল প্রকৃতির ও সামাজিক। সিনিয়র-জুনিয়র সবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল।’
তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁরা এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। বিষয়টি দেখছে নৌ পুলিশ।
টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাহসিফের মৃত্যুর কারণ কী এবং তাঁর মোটরসাইকেলটি কোথায়, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে তাঁর পরিবার।



